রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বা সরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান মানেই আর্থিক ঝুঁকিমুক্ত—দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই ধারণায় বড় ধাক্কা লেগেছে। চীনের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী 'জুহাই হুয়াফা গ্রুপ কো' চরম আর্থিক সংকটে পড়ার পর দেশটির ক্রেডিট মার্কেট গত দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধসের মুখে পড়েছে।
মূল ঘটনা: দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশের স্থানীয় সরকারের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন এই বিশাল শিল্পগোষ্ঠীটি সম্প্রতি দুটি ট্রাস্ট প্রোডাক্টের পেমেন্ট বা টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে (পেমেন্ট মিস করেছে)। পাশাপাশি কিছু ব্যাংক ঋণের মেয়াদ বাড়ানোরও অনুরোধ জানিয়েছে। চীনে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোনো কোম্পানির ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল হওয়ায় এটি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
বাজারের প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব:
বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধি: গত সোমবার পর্যন্ত দুই দিনে চীনের করপোরেট বন্ডে বিনিয়োগ ধরে রাখতে বিনিয়োগকারীরা যে গড় সুদের হার দাবি করেছেন, তা ১০.৩ বেসিস পয়েন্ট বেড়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর দুই দিনে এটাই ছিল সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।
বিদেশি বন্ডের দরপতন: গত সপ্তাহে হুয়াফার বিদেশি মুদ্রায় ইস্যু করা বন্ডের দাম মারাত্মকভাবে কমে অভিহিত মূল্যের প্রায় ৫৪ শতাংশে নেমে আসে। কোম্পানিটির মোট সুদবাহী ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১৩ বিলিয়ন ইউয়ান বা প্রায় ৬২ বিলিয়ন ডলার (২৫৩.১৬ বিলিয়ন মালয়েশীয় রিঙ্গিত)।
অন্যান্য বাজারে ধাক্কা: হুয়াফার এই সংকটের প্রভাবে চীনের উচ্চ সুদের ডলার বন্ডগুলো প্রায় এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সপ্তাহ পার করেছে। এছাড়া গত শুক্রবার দেশটির অভ্যন্তরীণ সরকারি ঋণবাজারে ৩০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের ফিউচার লেনদেনে মার্চ মাসের পর একদিনের হিসাবে সবচেয়ে বড় দরপতন ঘটে।
বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন: সিঙ্গাপুরভিত্তিক ক্রেডিটসাইটসের এশিয়া ক্রেডিট কৌশল বিভাগের প্রধান জারলিনা জেংয়ের মতে, স্থানীয় সরকারের অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আর্থিক সক্ষমতার রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলো যেন এক একটি 'বিস্ফোরণের অপেক্ষায় থাকা টাইম বোমা'। দীর্ঘমেয়াদি আবাসন খাতের মন্দা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়ে যাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের মুনাফা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
বিশেষ করে, হুয়াফার প্রধান কার্যালয় চীনের সবচেয়ে বড় অর্থনীতিসমৃদ্ধ গুয়াংডং প্রদেশে অবস্থিত হওয়ায় এই বিপর্যয় গোটা দেশের বিনিয়োগকারী মহলে গভীর আশঙ্কা তৈরি করেছে। সরকারের বিভিন্ন পরোক্ষ সহায়তা সত্ত্বেও এমন বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয় চীনের ঋণবাজারের স্থিতিশীলতাকে নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।