হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। তবে এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সক্ষমতা এবং এর সীমাবদ্ধতা উভয়ই সামনে চলে এসেছে।
জাহাজে হামলা: গত ৩০ অক্টোবর হরমুজ প্রণালির কাছে কাতারের এলএনজিবাহী জাহাজ ‘আল মায়েদা’ হামলার শিকার হয়। পাকিস্তানি ডেসপাচ বা আমদানির জন্য গ্যাস নিয়ে যাওয়া ওই জাহাজটি ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় নিরাপদ চলাচলের অনুমতি পেয়েছিল।
দায়িত্ব এড়ানোর ধোঁয়াশা: এই হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং কেউ এর দায়ও স্বীকার করেনি। কাতার বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে।
পাকিস্তানের জ্বালানি সংকট: পাকিস্তানের নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তা হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। কাতার থেকে পাকিস্তানের আমদানিকৃত এলএনজির প্রায় পুরোটাই এই রুট দিয়ে আসে। অথচ গত অক্টোবরে পাকিস্তান মাত্র দুটি এলএনজি চালান পেয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল আটটি। ফলে জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির মেয়াদ আগামী ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: দোহায় ইরান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যকার বৈঠকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সময়সীমা সাত দিন থেকে কমিয়ে দুই দিন করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ ও উপসাগরে মার্কিন উপস্থিতি হ্রাসের মতো শর্ত দিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে নৌ চলাচল স্বাভাবিক না হলে তারা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বিশ্লেষকদের পরামর্শ: বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে পাকিস্তানের একক প্রচেষ্টার ওপর ভর না করে কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের মতো দেশগুলোর সাথে মিলে একটি যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত। একই সাথে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থা করা এবং সমুদ্রসীমায় নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।