ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে ২০২৬ সালে নতুন গতিশীলতা অর্জন করেছে চারদেশীয় কৌশলগত জোট কোয়াড (আমেরিকা, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া)। বছরজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ও ধারাবাহিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে জোটটির কার্যক্রম এখন আরও সুসংহত হয়েছে।
তিন দফা বৈঠক: বছরের বিভিন্ন সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে তিন ধাপে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়— মে মাসে নয়াদিল্লি, জুলাইয়ে ম্যানিলা এবং সর্বশেষ ৩১ অক্টোবর আটলান্টায়।
শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি: আগামী মাসেই ফিলিপাইনের ম্যানিলায় কোয়াডের পরবর্তী শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোটের কার্যকারিতাকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
এআই খাতের উন্নয়ন: ইন্দো-প্যাসিফিকে নির্ভরযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে আটলান্টা বৈঠকে ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারেরও বেশি কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়।
খনিজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: ভারত ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে বর্জ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পুনরুদ্ধারের অবকাঠামো তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র ১ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
ব্যবসায়িক ফোরাম: প্রথমবারের মতো ‘কোয়াড বিজনেস লিডার্স ফোরাম’ গঠনের ঘোষণা আসে এই বৈঠকে, যেখানে চার দেশের ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকেরা এক প্ল্যাটফর্মে কাজ করবেন। এছাড়া আগামী ১৮ নভেম্বর টোকিওতে চার দেশের রপ্তানি ঋণ সংস্থাগুলোর বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে।
খনিজ ফ্রেমওয়ার্ক: মে মাসে নয়াদিল্লি বৈঠকে ‘কোয়াড ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ফ্রেমওয়ার্ক’ ঘোষণার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সরবরাহ শৃঙ্খলে সহযোগিতা বাড়ানো হচ্ছে।
আসিয়ানের প্রতি সমর্থন: জুলাইয়ের ম্যানিলা বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং মানবিক সহায়তায় আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ভূমিকার সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করা হয়।
জ্বালানি নিরাপত্তা: সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো ‘কোয়াড ফুয়েল সিকিউরিটি ফোরাম’ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কৌশলগত জ্বালানি মজুত শক্তিশালীকরণ এবং হরমুজ সংকটের মতো পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি প্রাধান্য পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, কোয়াডের কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও ২০২৬ সালের এই ধারাবাহিক উদ্যোগগুলো জোটটির যৌথ কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও আঞ্চলিক ভূমিকা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি এনে দিয়েছে। এখন এসব উদ্যোগকে সফলভাবে বাস্তবায়ন করাই জোটটির সামনে মূল চ্যালেঞ্জ।