ভিটেমাটিহীন এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েও চরম প্রতিকূলতা জয় করে এইচএসসি পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন বিশাল সরকার কৌশিক। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে সব বিষয়ে এ প্লাসসহ জিপিএ-৫ পেয়েছেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী। তবে তার এই সাফল্যের পেছনের গল্পটি কেবল কঠোর অধ্যবসায়ের নয়, বরং এক বুকভরা স্বপ্ন আর না পাওয়ার বেদনায় ভরা সংগ্রামের ইতিহাস।
কষ্টের শুরু ও সংগ্রামের পথচলা কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী বাজারের পাশে একটি জীর্ণ কুটিরে কৌশিকদের বসবাস। পুরোনো টিনের চালের ফুটো দিয়ে পানি পড়া আর বাঁশঝাড়ের পাশের খোলা রান্নাঘরের এই ঘরেই বাস তাদের। কৌশিকের বাবা সুকুমার সরকার অসুস্থ শরীর নিয়ে সপ্তাহে দুই দিন হাটবারে ছোট একটি টি-স্টল চালান। আর মা কণা রানী একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের আয়া হিসেবে কাজ করেন। তাদের এই সামান্য আয়ে সংসার চালানোই দায়। এর ওপর পরিবারের রয়েছে বড় অঙ্কের ঋণের বোঝা; গ্রামীণ ব্যাংক ও 'আশা' নামক এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের সাপ্তাহিক কিস্তি পরিশোধ করতেই নাভিশ্বাস উঠেছে পরিবারের।
অভাবকে হার মানানোর গল্প লেখাপড়ার খরচ জোগাতে দিনমজুরি ও হোটেল বয়ের কাজ করেছেন কৌশিক। নবম শ্রেণি পর্যন্ত অভাবের কারণে কোনো প্রাইভেট পড়ার সুযোগ হয়নি তার। বন্ধুদের দেওয়া পুরোনো কাপড়-জুতো পরে শুরু হয়েছিল তার শিক্ষাজীবন। অনেক দিন ঠিকমতো অটোরিকশার ভাড়া না থাকায় এবং সারাদিন অভুক্ত থেকেও পায়ে হেঁটে বা না খেয়ে স্কুল-কলেজে যেতে হয়েছে তাকে। তবে শিক্ষকদের ভালোবাসা ও বিনা মূল্যে পড়ার সুযোগ তাকে লক্ষ্যচ্যুত করতে পারেনি।
ভবিষ্যতের স্বপ্ন ও দুশ্চিন্তার মেঘ চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কৌশিকের বর্তমান সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চরম দারিদ্র্য ও ঋণের কিস্তি। ছেলের এমন ঈর্ষণীয় সাফল্যে পরিবারে আনন্দের বদলে এখন ভর করেছে গভীর দুশ্চিন্তা—কীভাবে জোগাড় হবে পরবর্তী পড়াশোনার খরচ? পরিবারের পক্ষ থেকে কৌশিকের চিকিৎসক হওয়ার এই স্বপ্ন পূরণে সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তি ও সরকারের সহায়তা কামনা করা হয়েছে।