সিরাজগঞ্জের বিখ্যাত আবার খাই হারিয়ে যাওয়ার পথে, জীবন সংগ্রামের শেষ প্রান্তেও আবার খাই ফেরিওয়ালা।


মো ইয়াকুব আলী তালুকদার, বিশেষ প্রতিনিধি , আপডেট করা হয়েছে : 05-10-2026

সিরাজগঞ্জের বিখ্যাত আবার খাই হারিয়ে যাওয়ার পথে, জীবন সংগ্রামের শেষ প্রান্তেও আবার খাই ফেরিওয়ালা।

সিরাজগঞ্জের ঐতিহাসিক বিখ্যাত মজাদার খাবার " আবার খাই "। কালের বিবর্তনে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে এই মজাদার খাবার। শৈশবের সেই সৃতি আর বহু কাল আগের এই আবার খাই মজাদার খাবার। 


অনেক আগে থেকেই দেখে আসা শৈশব থেকে  সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী গ্রামের এই বৃদ্ধ চাচা, আবার খাই, গুলগুলা, খুরমা, নিমকি, এসব বিভিন্ন গ্রামের বাড়ির উপর ফেরী করে বিক্রি করে আসছেন। এলাকার অসংখ্য মানুষ বলেন আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন মা আমাদের কিনে দিতো টাকার বদলে চাউল দিয়ে, গ্রামের অধিকাংশ মানুষই টাকার বদলে চাউল দিয়ে এই সদায় গুলা নিত। উনি পাতিল ভরে সদায় নিয়ে আসত, আর বাড়ি ফিরতো পাতিল ভর্তি চাউল নিয়ে। উনি কানে কম শুনে, তাই অনেক জোরে জোরে ডাকা ডাকি করে। উনার কমন ডায়লগ এই যে আইসো আইসো....! এসে গেছে আবার খাই! একবার খাইলে মন আবার খাইতে চায়! এখুনি আসেন চলে গেলে আফসোস করবেন! আসেন আসেন!


বয়োবৃদ্ধ ফেরিওয়ালা চাচা আসেন খুব সকালে। সকাল ৭ঃ০০ টার দিকে। তখনও অনেকেই ঘুমে থাকে। কিন্তু উনি আসার পরে উনার ডাকা ডাকিতে যারা ঘুমাই থাকে তাদের ঘুম ভাঙ্গে, বিশেষ করে বাচ্চাদের, ছোট বাচ্চারা বাড়ি থেকে ছুটে আসে সদায় নেবার জন্য। খেতে ভালোই মজা লাগে। ছোট বাচ্চারা নরম তুলতুলে গুলগুলা খুবই পছন্দ করে। উনি  সব আইটেম নিজেই তৈরী করে। বয়স হয়েছে, বৃদ্ধ হয়েছে, তাও নিজে ব্যবসা করে পরিশ্রম করে খান। কারো কাছে হাত পাতেন না।  ভাড়ে করে কাঁধে করে গ্রাম থেকে গ্রামে ফেরী করে বেড়ায়৷ 


এই বয়সে এসেও উনার জন্য ভাড়ে করে ফেরী করা কষ্ট সাধ্য ব্যাপার। তারপর ও জীবনের তাগিদে লড়াই করে চলেছেন। হয়তো উনি মারা গেলে আর এমন কেউ আর ফেরি করে মজাদার খাবার নিয়ে আসবে না। হারিয়ে যাবে সিরাজগঞ্জের মজাদার মুখরোচক খাবার আবার খাই! হারিয়ে যাবে সেই চিরচেনা সবার প্রিয় মুখ আবার খাই ফেরিওয়ালা চাচা!


সম্পাদকমন্ডলীর উপদেষ্টা -বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হারুন অর রশিদ, সম্পাদক -মো:এনায়েত হোসেন, সহযোগী সম্পাদক- এইচ এম মানিক

উপ-সম্পাদক- ইঞ্জিনিয়ার গোলাম ফারুক ওবি,বার্তা সম্পাদক- সবুজ ইসলাম, লিগ্যাল এডভাইজার- এডভোকেট শামীমা আক্তার।