<p><br></p>
১৫ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১২:৩১:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিতের তাগিদ সিইসির সঠিক নীতি ও পরিকল্পনায় যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলা সম্ভব: মাহদী আমিন সৈয়দপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আন্তর্জাতিক লিগে সুযোগ নিতে নিউজিল্যান্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি ছাড়ছেন ব্রেসওয়েল, স্থলাভিষিক্ত নিক কেলি টেকসই আবাসন কেবল একটি ঘর নয়, এটি মানসম্পন্ন জীবনের সমষ্টি: প্রধানমন্ত্রী দেশের বাজারে ভরিতে ১,৬৯১ টাকা পর্যন্ত কমল সোনার দাম দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের পর রাজউক কর্মকর্তাদের বিদেশ পলায়ন: থমকে আছে আইনি প্রক্রিয়া সিরাজগঞ্জের বিখ্যাত আবার খাই হারিয়ে যাওয়ার পথে, জীবন সংগ্রামের শেষ প্রান্তেও আবার খাই ফেরিওয়ালা। ‎মৌলভীবাজারে নাসিরনগরের সংঘবদ্ধ নারী চোর চক্রের ৫ সদস্য আটক মোকামতলা উপজেলা পল্লী প্রাণী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল ইসলামের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ


‘আমাকে পাঠিয়ো না’, ৯ বছরের শিশু কেন স্কুল ভবন থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করল
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৮-১১-২০২৫
‘আমাকে পাঠিয়ো না’, ৯ বছরের শিশু কেন স্কুল ভবন থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করল


ভারতের রাজস্থান রাজ্যের জয়পুরের এক শান্ত বাড়িতে আজও ৯ বছরের আমাইরার কণ্ঠস্বর শোনা যায়। তার মা এক বছর আগে হোয়াটসঅ্যাপে তার কথা রেকর্ড করে রেখেছিলেন। সেই ক্লিপে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীটিকে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শোনা যায়, ‘আমি স্কুলে যেতে চাই না...আমাকে পাঠিয়ো না।’

আমাইরার মা শিবানী মীনা অডিওটি রেকর্ড করে মেয়ের শ্রেণিশিক্ষকের কাছে পাঠিয়েছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন, এর মাধ্যমে স্কুল কর্তৃপক্ষ হয়তো তাঁর সন্তানের কষ্টের কারণ সম্পর্কে সতর্ক হবে।

মা শিবানী অভিযোগ করেন, ‘আমি শ্রেণিশিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছি, ক্লাসের সমন্বয়কের সঙ্গেও গত এক বছরে একাধিকবার কথা বলেছি। কিন্তু তাঁরা হয় আমাকে এড়িয়ে গেছেন, না হয় অগ্রাহ্য করেছেন।’

এক বছর পর গত বছরের ১ নভেম্বর জয়পুরের নামকরা নীরজা মোদি স্কুলের ৯ বছরের এই ছাত্রী স্কুল ভবনের চতুর্থ তলা থেকে লাফ দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

আমাইরার মা–বাবার অভিযোগ, তাঁদের শিশুটির প্রতি যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বুলিং, টিজিং ও মৌখিক নির্যাতনের বিষয়ে বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

আমাইরার বাবা বিজয় মীনা অভিভাবক ও শিক্ষকদের একটি বৈঠকের (পিটিএম) কথা স্মরণ করেন। তাঁর ভাষ্য, সেই সময় একদল শিশু আমাইরা ও অন্য একটি ছেলেশিশুকে ইশারা করে দেখাচ্ছিল। আমাইরা লজ্জায় বাবার পেছনে লুকিয়ে পড়েছিল। তিনি পিটিএমে বিষয়টি তুলেছিলেন।

বিজয় মীনা বলেন, ‘শিক্ষক আমাকে বললেন, এটি একটি সহশিক্ষা স্কুল, তাই আমাইরার উচিত সব শিশুর, এমনকি ছেলেদের সঙ্গেও কথা বলা শেখা। আমি শিক্ষককে বলেছিলাম, “আমার মেয়ে যদি ছেলেদের সঙ্গে কথা বলতে না চায়, তবে সেটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।”’

তদন্তকারী কর্মকর্তারা শ্রেণিকক্ষের যে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেছেন, তাতে দেখা যায়, আমাইরা রেলিং টপকে লাফ দেওয়ার কয়েক মিনিট আগে দুবার তার শিক্ষকের কাছে হেঁটে গিয়েছিল। সে কী বলেছিল, তা জানা যায়নি। কারণ, এই ফুটেজে কোনো শব্দ নেই। তবে সিবিএসই নির্দেশিকা অনুযায়ী, শ্রেণিকক্ষের নজরদারিতে অডিও রেকর্ডিং বাধ্যতামূলক।

আমাইরার কাকা সাহিল বলেন, ‘আমরা উত্তর চাই। আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাই, পাঁচ হাজারের বেশি শিশু এবং ছয়তলা এই ভবনে নিরাপত্তার জন্য গ্রিল বা জাল (নেট) না রেখে তারা বাড়তি ফ্লোর তৈরির অনুমতি পেল কী করে? এটা একদম প্রাথমিক একটা বিষয়। এতগুলো শিশু যেখানে রয়েছে, সেখানে কীভাবে খোলা ফ্লোর থাকতে পারে? সিবিএসই নির্দেশিকা অনুযায়ী সিসিটিভিতে অডিও নেই কেন? এমনকি ১৫ দিনের সিসিটিভি ফুটেজও পাওয়া উচিত। এটি জয়পুরের একটি নামকরা স্কুল। তারা প্রচুর ফি নেয়, কিন্তু জবাবদিহি কোথায়?’

জয়পুরের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ রাজর্ষি রাজ বর্মা এনডিটিভিকে বলেন, শিশুটির মা–বাবার জবানবন্দি নিয়েছে পুলিশ। পুরো বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাজর্ষি রাজ বলেন, ‘আমরা সবকিছু রেকর্ড ও যাচাই–বাছাই করছি। মা–বাবা প্রথমে শোকে পাথর হয়ে কথা বলতে পারছিলেন না। কিন্তু এখন তাঁদের যা যা অভিযোগ আছে, আমরা তা রেকর্ড করে যাচাই–বাছাই ও তদন্ত করব।’

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (প্রাথমিক) রামনিবাস শর্মা নিশ্চিত করেছেন, তাঁর বিভাগ আগামী দু–তিন দিনের মধ্যে পুলিশের উপস্থিতিতে মা–বাবার বক্তব্য রেকর্ড করবে।

‘খারাপ’ শব্দের ব্যবহার প্রসঙ্গে এই কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে আসেনি। তবে কিছু শিশু উল্লেখ করেছে, সেদিন সে স্কুলে যেতে চায়নি। অন্য কিছু শিক্ষার্থী ‘খারাপ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ করেছিল।

স্কুল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।



শেয়ার করুন