মাগুরায় ১৫০ ভরি স্বর্ণের ভাগবাটোয়ারা ও ২০ লাখ টাকার লেনদেন: যুবদল নেতা শাকের হত্যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য


অনলাইন ডেস্ক , আপডেট করা হয়েছে : 04-11-2026

মাগুরায় ১৫০ ভরি স্বর্ণের ভাগবাটোয়ারা ও ২০ লাখ টাকার লেনদেন: যুবদল নেতা শাকের হত্যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

মাগুরায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ১৫০ ভরি স্বর্ণ লুটের পর সেই লুটের ভাগ ও দ্বন্দ্বের জেরে খুন হতে হয়েছে পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মাগুরা পুলিশ লাইনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কাহিনী তুলে ধরেন।

ডাকাতি ও বিরোধের সূত্রপাত: গত ৬ অক্টোবর দুপুরে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসে পুলিশ পরিচয়ে হানা দেয় ১২-১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র। স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমানকে বাস থেকে নামিয়ে একটি মেহগনিবাগানে নিয়ে মারধর করে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যের ১৫০ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এই লুট হওয়া স্বর্ণ নিজের কাছে রেখে দেন মারুফ হোসেন। শাকের হোসেন বারবার নিজের ভাগের স্বর্ণ দাবি করতে থাকলে উভয়ের মধ্যে বিরোধ চরমে ওঠে। পরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদ সালিশ করে শাকেরকে ৫ লাখ টাকা দিলেও তিনি তাতে সন্তুষ্ট হননি এবং পুরো পাওনা আদায়ে অনড় থাকেন।

যেভাবে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন: টাকা ও স্বর্ণের জন্য শাকেরের লাগাতার চাপে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষেন মারুফ। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গোলাম জাহিদের যমুনা ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ২০ লাখ টাকা পাঠান মারুফ। এরপর গত ২১ অক্টোবর ভোরে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে শাকের হোসেনকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

পুলিশের অভিযান ও গ্রেপ্তার: এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলায় মোট ১১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোট ৭১৬ দশমিক ৪৬ গ্রাম বা ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ, গুলিসহ বিভিন্ন আলামত এবং অপরাধে ব্যবহৃত গাড়ি-মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। মামলার অন্যতম আসামি গোলাম জাহিদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।


সম্পাদকমন্ডলীর উপদেষ্টা -বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হারুন অর রশিদ, সম্পাদক -মো:এনায়েত হোসেন, সহযোগী সম্পাদক- এইচ এম মানিক

উপ-সম্পাদক- ইঞ্জিনিয়ার গোলাম ফারুক ওবি,বার্তা সম্পাদক- সবুজ ইসলাম, লিগ্যাল এডভাইজার- এডভোকেট শামীমা আক্তার।